পিরিয়ডের ব্যথায় কুপোকাত? জেনে নিন ব্যথা কমানোর উপায় |

পিরিয়ড কার না হয়? টিনা মিনা তানিয়া সোনিয়া সাবিলা শিলা মুন্নি কমবেশ সবারই হয়। পিরিয়ডের ব্যথায় ভুগছেন না এমন মেয়েদের সংখ্যাটাও কম নয়। কিন্তু এই ব্যথা থেকে মুক্তির উপায়গুলো সম্পর্কে তারা কতটুকু জানেন?

চক্ষুলজ্জার কারণে এধরণের গোপনীয় সমস্যাগুলোর কথা কাউকে বলতে না পেরে পিরিয়ডের ব্যথায় কুপোকাত হয়ে যাওয়া মেয়ে আমাদের সমাজে অহরহ দেখা যায়। আপনার বাসার কাজের বুয়াও হয়ত একই সমস্যায় ভুগছেন। বিশ্বাস না হলে তাকে জিজ্ঞেস করে দেখুন।

পিরিয়ড সময়কালীন এই ব্যথা থেকে একেবারে মুক্তির উপায় না থাকলেও কিছু বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে আংশিকভাবে ব্যথাটা কমানো যেতে পারে। বিশ্বাস না হলে গুগলে সার্চ দিয়ে দেখুন

পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর জন্য কি করছেন আপনি?

পিরিয়ডের ব্যথা মেয়েদের জন্য একটি অত্যন্ত বিরক্তকর ব্যাপার। পিরিয়ডের সময় পেটে ব্যথা ‍হওয়ার অনুভূতি অনেক কষ্টকর। অজ্ঞতার কারণে অনেকেই জানেন না পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায় !

পিরিয়ডের কারণে হওয়া পেট ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে এখুনি জেনে নিন। পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে পেটে ব্যথা হলেই ব্যথানাশক ওষুধ বা প্যারাসিটামল ট্যাবলেট না খেয়ে এমন ঘরোয়া সমাধানগুলো অনুসরণ করাই সবচেয়ে বেশি উপকারী। এতে স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হওয়ারও ঝুঁকি থাকে না।

গরম ভাপ‍ : পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত ব্যথা হলে ‘হট ওয়াটার ব্যাগ’য়ে গরম পানি ভরে তলপেটে চেপে রাখা যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে পানির তাপমাত্রা যেন সহনীয় হয়। গরম ভাপ দেওয়ার ফলে ব্যথা কিছুটা কমে আসবে। কারণ গরম ভাপ ইউট্রাসের পেশিগুলো শিথিল করে ব্যথা কমাতে সহায়তা করে।

আদা : ব্যথা কমাতে আদা চা পান করা বেশ উপকারী। নিজের জন্য বেশি পরিমাণে আদা দিয়ে ক্যামোমাইল চা তৈরি করে পান করতে পারেন। আদা প্রোস্টাগ্লান্ডিনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং ক্যামোমাইল ব্যথা উপশমে সহায়ক। ব্যথানাশক হিসেবে এই চা বেশ উপযোগী।

মৌরি : এই দানাদার মসলাতে রয়েছে ‘অ্যান্টিসপাসমডিক’ এবং ‘অ্যান্টিইনফ্লামাটরি’ উপাদান, যা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। ব্যথা বাড়লেই অল্প করে মুখে দিয়ে চাবিয়ে নিতে পারেন অথবা পানিতে ফুটিয়ে অল্প করে চায়ের মতো পান করলেও উপকার পাওয়া যায়।

দারুচিনি : পিরিয়ডের সময় জমাট বাঁধা রক্তপাতের কারণে ব্যথা ও অস্বস্তি বৃদ্ধি পায়। দারুচিনিতে রয়েছে আঁশ, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়াম। খানিকটা পানিতে আধা চা-চামচ দারুচিনি গুলে রেখে দিন। কিছুক্ষণ পর পর অল্প করে পান করতে হবে।

এড়িয়ে চলুন কফি : পিরিয়ড চলাকালে উষ্ণ পাণীয় পান করা উপকারী হলেও কফির ক্ষেত্রে এটি ব্যতিক্রম। শুধু কফি নয় ক্যাফেইন সমৃদ্ধ যে কোনো পানীয়ই এই সময় এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ ক্যাফেইন রক্ত চলাচলে ব্যঘাত ঘটায়। ফলে ব্যথা বৃদ্ধি পেতে পারে।

অর্গাজম : পিরিয়ড চলাকালে শারীরিক মিলন নিয়ে দ্বিধায় থাকেন বেশিরভাগ নারী। কিন্তু এক গবেষণায় দেখা গেছে অর্গাজম পিরিয়ডের ব্যথা কমিয়ে আনতে সহায়ক। কারণ এতে ভালোলাগার অনুভূতি তৈরি হবে এবং ইউট্রাসে রক্তচলাচলও বৃদ্ধি পাবে। এতে ব্যথা কমে আসবে।

পিরিয়ডের ব্যথা নিয়ে আর হেলাফেলা নয়। এখন থেকেই এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত জ্ঞান আহরণ করে সুস্থ্য ভবিষ্যত নিশ্চিত করুন।

(Visited 1 times, 1 visits today)

Comments

comments