জেনে নিন অনলাইন অথবা হাতে লিখে পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া যেভাবে সম্পন্ন করবেন

বাংলাদেশে বর্তমানে পাসপোর্টের আবেদন করার প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে । কিন্তু ইন্টারনেটে যেসব প্রক্রিয়ার বিবরন দেয়া আছে সেগুলোর তথ্য অসম্পূর্ন অথবা পুরনো হয়ে গেছে । আমি এখন চেষ্টা করবো সেই সব তথ্যগুলোকে হালনাগাদ বা সংশোধন করে
২০১৫ সালে যে পদ্ধতিতে পাসপোর্টের আবেদন জমা নেয়া হয় তার পরিপূর্ন প্রক্রিয়া বর্ণনা করতে । এটি আমার প্রথম পোস্ট , অনেক ক্ষেত্রেই ভুল হতে পারে, আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং ভুল সংশোধনের সু্যোগ দিয়ে আমাকে উৎসাহিত করবেন ।

***১ম ধাপ : টাকা জমা দেওয়া

*অনলাইনে পাসপোর্ট করতে হলে প্রথমে টাকা জমা দিতে হবে।
কেননা অনলাইনে ফর্ম পূরণ করার সময় টাকা জমা দেওয়ার তারিখ , ব্যাংকের নাম , ব্যাংকের শাখা এবং জমা দানের স্ক্রল নম্বর উল্লেখ করার প্রয়োজন হয়। তাই ফর্ম পূরণের আগে টাকা জমা দিতে হবে।
*রেগুলার ফি ৩,৪৫০ টাকা (+১০ টাকা ভ্যাট) এবং জরুরি পাসপোর্ট করতে হলে তার ফি ৬,৯০০টাকা (+১০ টাকা ভ্যাট) ।
রেগুলার ফিতে পাসপোর্ট পেতে সময় দেয়া থাকে আবেদনের দিন থেকে ২১ দিন (কিন্তু পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট পেতে বিলম্ব ও অন্যান্য কারনে পাসপোর্ট পেতে বর্তমানে কমপক্ষে ১ মাস অথবা বেশি লাগে ),
জরুরিভিত্তিতে করতে চাইলে আবেদনের দিন থেকে ১০ দিন পর পাসপোর্ট প্রদানের তারিখ দেয়া হয় ( কিন্তু পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট পেতে বিলম্ব ও অন্যান্য কারনে পাসপোর্ট পেতে বর্তমানে কমপক্ষে ১৫ কার্যদিবস লাগেই ) ।
*সোনালী ব্যাংক সহ আর ৫টি ব্যাংকে পাসপোর্ট ফি জমা নেয়া হয় ।
*ব্যাংকের রিসিট ২-১ টি ফটোকপি করে রাখুন ।
*বর্তমানে অনলাইনেও পাসপোর্ট আবেদনের টাকা জমা নেয়ার ব্যবস্থা আছে কিন্তু পদ্ধতিটি আমার জানা নেই ।
***২য় ধাপ : অনলাইনে ফর্ম পূরণ করা

অনলাইনে ফর্মপূরণের জন্য প্রথমে পাসপোর্ট অফিসের http://www.passport.gov.bd/Default.aspx সাইটে যেতে হবে ,
তারপর “I have read the above information and the relevant guidance notes” টিক চিহ্ন দিয়ে
“continue to online enrollment” এ ক্লিক করতে হবে।
*প্রথমে পার্সপোট টাইপ দিতে হবে “ordinary”।
Delivery Type অংশে ২১ দিনের জন্য হলে Regular এবং ১০ দিনের জন্য হলে Express সিলেক্ট করতে হবে।
*আপনার নাম ও ব্যক্তিগত তথ্যাদি- যেমন: নামের বানান, পিতা-মাতার নাম যেন শিক্ষাগত সার্টিফিকেট কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো একই হয়। কোনো তথ্য ভুল হলে পাসপোর্টে হতে সমস্যা হবে।
*মেইল অ্যাড্রেস ও মোবাইল নম্বার দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই যেটি ব্যবহৃত হচ্ছে সেটি দেওয়া উচিত। যে অংশগুলো লাল স্টার মার্ক (*) দেওয়া রয়েছে, সেগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে। তারপর ভালমত বুঝে বুঝে সাবধানে প্রতিটি প্রয়োজনীয় ধাপে সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরন সম্পন্ন করুন ।
*সম্পূর্ণ ফর্মটি পূরণ হলে পুনরায় এটি চেক করতে হবে। সব তথ্য টিক আছে কি না, তা যাচাই করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।
সবশেষে পূরণ করা ফর্মটি সাবমিট করতে হবে। সফলভাবে সাবমিট করা হলে পূরণ করা ফর্মের একটি পিডিএফ কপি
যে ই-মেইল আইডি দিয়ে ফর্ম পূরণ করা হয়েছে, সেখানে চলে আসবে , আবার নাও আসতে পারে তবে এটা কোন সমস্যা না ,
উক্ত পেজ এ পিডিএফ কপি ডাউনলোডের লিঙ্ক দেয়া আছে অথবা উক্ত ওয়েবসাইট থেকে পরবর্তীতে Application ID ও Password দিয়ে আবেদন ফর্মের পিডিএফ কপি যতবার ইচ্ছা ডাউনলোড করা যাবে ।
*অনলাইন অথবা হাতে লিখা কোন ক্ষেত্রেই আগে থেকে ছবি তোলার তারিখ নির্ধারন করার অপশন নাই
কারন উভয় ক্ষেত্রে যেদিনই আবেদনপত্র নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যাবেন ওই দিনই আপনার ছবি তোলা সহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য আপনাকে একটি আলাদা ডকুমেন্ট দেবে এবং পাসপোর্ট সংগ্রহ করার তারিখও ডকুমেন্টে লিখা থাকবে ।
***৩য় ধাপ : ফর্মের প্রিন্ট এবং সত্যায়ন

এবার পাসপোর্ট আবেদনের পিডিএফ কপির ২ কপি কালার প্রিন্ট করতে হবে। এতে প্রথম পৃষ্ঠার ১ নম্বর স্থানে আবেদনকারীর নাম কলম দিয়ে বাংলায় লিখতে হবে এবং ৩ নম্বর পাতায় স্বাক্ষর করার স্থানে আবেদনকারীকে সই করতে হবে।
এবার আবেদনকারীকে নিজের ৫৫ × ৪৫ মিলিমিটার আকারের রঙিন ছবি (পাসপোর্ট সাইজ ছবি) একটি করে উভয় ফর্মে আঠা দিয়ে লাগানোর পর দুটো ফর্মই সত্যায়িত করতে হবে।ছবিটি এমনভাবে সত্যায়িত করতে হবে যেন সত্যায়নকারীর স্বাক্ষর এবং সীলমোহর এর অর্ধেক অংশ ছবির উপর আর বাকি অর্ধেক অংশ ফরমের কাগজে থাকে। পরিচিত কাউকে দিয়ে সত্যায়ন করালে ভাল । কারন উভয় আবেদনপত্রের ৪ নম্বর পৃষ্ঠায় সত্যায়নকারী কর্মকর্তার নাম, আবাসিক ঠিকানা ও ফোন নম্বার, পাসপোর্ট/জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর , স্বাক্ষর ও সীল লিখে নিতে হবে । এরই সাথে আবেদনকারীর নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপি সত্যায়ন করে নিতে হবে (২টি করে) ।
***৪র্থ ধাপ : আবেদন পত্র জমা দেওয়ার আগে পুরো ফর্মটি রি-চেক

এখন ব্যাংকের রিসিট একটি ফর্মে ও রিসিটের ফটোকপি আরেকটি ফর্মে আঠা দিয়ে সংযুক্ত করতে হবে । রিসিটের উপরের অংশে আঠা লাগিয়ে তা পাসপোর্ট আবেদন ফর্মের ১ম পৃষ্ঠার ছবির স্থানের নিচে লাল কালিতে লেখা সতর্কতা মূলক অংশের উপর সংযুক্ত করুন ।
*সকল পেশার মানুষের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত ফটোকপি ২টি আবেদন পত্রের সাথে সংযোজন বাধ্যতামূলক । পেশার ভিন্নতার জন্য এর সাথে কয়েকটি কাগজ যুক্ত করতে হয় , যেমন
— পেশা ছাত্র হলে শুধুমাত্র SSC certificate এর সত্যায়িত ফটোকপি (student id card দরকার নেই )
— পেশা ব্যবসায়ী হলে টি আই এন সনদের সত্যায়িত ফটোকপি (ssc certificate ফটোকপি দরকার নেই )
— পেশা Private service হলে সম্ভবত job appointment letter অথবা চাকরি প্রমান সনদের সত্যায়িত ফটোকপি সংযুক্ত করতে হয়(sure না)
— আর পুরাতন পাসপোর্ট Renew করতে হলে তার প্রথম কয়েকটি পৃষ্ঠার সত্যায়িত ফটোকপি

*অর্থাৎ STUDENT পেশার পাসপোর্ট করতে হলে হলে শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি/ জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত ফটোকপির সাথে SSC certificate এর সত্যায়িত ফটোকপি সংযুক্ত করলেই আবেদন পত্রটি সম্পুর্ণ হয়ে যায় ।
*জন্ম নিবন্ধন সনদটি অনলাইন ভিত্তিক হতে হবে অর্থাৎ জাতীয় ডাটাবেজে আপনার জন্ম সনদটি আপলোড করা থাকতে হবে
যেন পাসপোর্ট অফিস থেকে জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সার্চ দিলে আপনার ওই নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া যায়
*অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৫ বছরের কম) আবেদনকারীর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বাবা ও মায়ের একটি করে রঙিন ছবিও লাগবে যা আবেদন পত্রের প্রথম পৃষ্ঠার উপরের ডান পাশে নির্ধারিত স্থানে আঠা দিয়ে লাগাতে হয় ।
——-এসব ধাপ শেষ করলে ফর্মটি জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

***৫ম ধাপ : ফর্ম জমা দেওয়া এবং ছবি তোলা

অনলাইনে আবেদন করার দিন থেকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রস্তুতকৃত ফর্মটি নিয়ে যেতে হবে পাসপোর্ট অফিসে।
পাসপোর্টের আবেদন ফর্ম সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ৩ টা পর্যন্ত জমা নেয়া হয় ।
পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় অবশ্যই সাদা পোশাক পড়া উচিত নয়। কেননা ছবি তুললে সাদা পোশাকে তা ভালো হবে না এবং তারা আপনার ছবি তুলবেই না । এজন্য রঙ্গিন পোশাক পড়ে যেতে হবে ।
আবারও বলছি , যেদিন আপনি আবেদন পত্র জমা দিতে যাবেন সেদিনই ছবি তোলা হবে , আপনি হাতে লিখা অথবা অনলাইনে আবেদনকারী যেই হন না কেন ।
জমাদানের প্রক্রিয়াঃ

* আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে ঢুকার পর মেইন গেটের সাথে নিচে যে লাইন দেখবেন সেখানে সবার সাথে দাড়াবেন অর্থাৎ হাতে লিখা কিংবা অনলাইন আবেদনকারী যেই হন না কেন , প্রথম কাজ বা প্রথম লাইন একটাই । এখানে সকল আবেদনকারীকে আবেদনপত্রের জন্য সিরিয়াল নম্বর নিতে হয় । লাইন যত বড়ই হোকনা কেন এখানে সিরিয়াল নিতে ২০ থেকে ২৫ মিনিটের বেশি সময় লাগেনা কারন সেনা সদস্যরা দ্রুত সিরিয়াল বন্টন করেন ।
*এর পর সিরিয়াল দিয়ে সেনা সদস্যরা অনলাইনে আবেদনকারী হলে ওই পাসপোর্ট ভবনের তিন তলায় ৩০৪ নম্বর রুমে পাঠান । ৩০৪ নম্বর রুমে মাঝে মাঝে লাইন একটু বড় থাকে আবার কখনো সামান্য থাকে ।তবে এখানেও ১০ মিনিটের বেশি সময় লাগেনা ।
* ৩০৪ নম্বর রুমে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা আবেদনকারীকে নাম, পিতার নাম , পেশা সম্পর্কে সাধারন প্রশ্ন করে আবেদনকারীর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে আবেদনটি নথিভুক্ত করেন । এরপর আবেদনকারীকে আবার নিচতলায় ১০২ নম্বর কক্ষে(টেবিলে) যেতে বলেন ।
*৩০৪ নম্বর রুমের কর্মকর্তা আবেদনে কোন অসঙ্গতি দেখলে আবেদনকারীকে কাগজপত্র চেক করার জন্য নিচতলার ১০১ নমর রুমে পাঠাতে পারেন ( অসঙ্গতি যেমন জন্ম নিবন্ধন সনদ অনলাইন ভিত্তিক না হলে, অথবা আবেদনকৃত ফর্ম ও সংযুক্ত কাগজপত্রের বিভিন্ন নাম ও তথ্যে মিল না থাকলে , অথবা কোন কিছু ভুয়া মনে হলে ) ।
* এরপর ৩০৪ নম্বর রুমের কাজ শেষ হওয়ার পর নিচতলার ১০২ নম্বর কক্ষে(টেবিলে) গেলে সেনা সদস্যরা আবেদন ফর্মে আবেদিত সিল মেরে দিবেন এবং ছবি তোলার জন্য একই ভবনের ৪০২ নম্বর রুমে পাঠাবেন , এখানে ছবি তোলার সিরিয়াল আছে তবে অনলাইনে আবেদনকারী হিসেবে পরিচয় দিলে সিরিয়াল নাও লাগতে পারে ।
*৪০২ নম্বর রুমে আপনার আবেদনপত্রগুলো রেখে সেখানকার অফিসার আপনার ছবি তুলবে, দুই হাতের আঙ্গুলের ছাপ ও ডিজিটাল স্বাক্ষর নিবে এবং তারপর আপনাকে রশিদ দেওয়া হবে তাতে পাসপোর্ট সংগ্রহ করার তারিখ লিখা থাকবে। রশিদটি ভালো মত চেক করে রুম থেকে বেরিয়ে আসুন আর রশিদের তথ্যে কোন ভুল থাকলে রশিদে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করুন। এভাবে অনলাইনে আবেদন করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল ।
*আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে ঢুকার পর থেকে ছবি তোলা শেষ করে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ ১ ঘন্টা লাগতে পারে ।

######### হাতে লিখে পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া যেভাবে সম্পন্ন করবেনঃ
হাতে লিখে আবেদন করার ক্ষেত্রে http://www.passport.gov.bd/Default.aspx ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে অথবা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসগুলো থেকে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে ।
তারপর ফর্মে *আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস মিশন/বাংলাদেশ মিশন এর শুন্যস্থানে <আগারগাঁও> অথবা যে অনুমোদিত অফিসে আবেদনপত্রটি জমা দেয়া হবে তার নাম লিখতে হবে ।
এরপর স্টার (*) চিহ্নিত শুন্যস্থানগুলো অবশই পূরন করতে হবে যা অনলাইনের আবেদনের নির্দেশনা মতই হবে , শুধু পার্থক্য হল এখানে হাতে লিখতে হবে আর অনলাইনে হলে কম্পিউটারে টাইপ করতে হয় ।
২ টি ফর্ম শুদ্ধ ও নির্ভুল ভাবে পূরন করতে হবে যেভাবে অনলাইনে করতে বলা হয়েছে । এক্ষেত্রে ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার কাজটা আবেদনপত্র পাসপোর্ট অফিসে জমা দেয়ার পূর্বে করলেও চলবে ।
তারপর টাকা জমা দেওয়ার তারিখ , ব্যাংকের নাম , ব্যাংকের শাখা এবং জমা দানের রিসিটের নম্বর উল্লেখ করার প্রয়োজন হয় ফর্মের ৩ নম্বর পৃষ্ঠার নির্ধারিত স্থানে । ফর্ম পূরন শেষ হলে তা অনলাইন প্রক্রিয়ায় বর্ণিত ৩ ও ৪ নম্বর ধাপের মত প্রসেসিং সম্পন্ন করতে হবে ।
জমাদানের প্রক্রিয়াঃ

*সরকারী কার্যদিবসের যেকোন দিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে হাতে লিখা আবেদনপত্রটি নিয়ে রঙ্গিন পোষাক পড়ে
আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে ঢুকার পর মেইন গেটের সাথে নিচে যে লাইন দেখবেন সেখানে সবার সাথে দাড়াবেন । এখানে লাইনের শেষ মাথায় একটি টেবিলে সেনা সদস্যরা আপনার আবেদন পত্রে ঐ দিনের জন্য সিরিয়াল লিখে দিবেন ।* এরপর আপনাকে ওই টেবিলের সামনেই ১০৩ নম্বর কক্ষে যেতে বলবে, এখানে আপনার আবেদন পত্রে আবেদিত সিল দিয়ে দেয়া হবে । এখানে লাইন থাকলেও সময় ৩০ মিনিটের বেশি লাগবে না ।* এরপর আপনাকে ৪০৪ নম্বর রুমে যেতে বলা হবে যেখানে আপনার কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই হবে, সব ঠিক থাকলে আপনার আবেদন পত্র ২ টি রেখে আপনাকে ছবি তোলার রিসিট দেয়া হবে । এখানেও লাইনে দাড়াতে হবে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট । এবং পাশের ৪০৫ নম্বর রুমে ছবি তোলার জন্য লাইনে দাড়াতে বলা হবে, এছাড়া আরও ৩টি ছবি তোলার রুম রয়েছে । এখানে লাইনের জন্য ছবি তুলতে ১ ঘন্টা অথবা একটু কম বেশি-সময় লাগে ।
*৪০৫ নম্বর রুমে প্রবেশ করলে আপনার রিসিট নিয়ে প্রথমে ২হাতের আঙ্গুলের ছাপ, তারপর ডিজিটাল স্বাক্ষর নিয়ে ছবি তোলা হবে এবং আপনাকে রশিদ দেওয়া হবে। তাতে পাসপোর্ট সংগ্রহ করার তারিখ লিখা থাকবে রশিদটি ভালো মত চেক করে রুম থেকে বেরিয়ে আসুন। এভাবে হাতে লিখে পাসপোর্টের আবেদন করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল ।

*এভাবে হাতে লিখা আবেদনপত্র নিয়ে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে ঢুকার পর থেকে ছবি তোলা শেষ করে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট অথবা একটু কম-বেশি সময় লাগতে পারে ।

পুলিশ ভেরিফিকেশানঃ বিষয়টি নিয়ে অনেকেই চিন্তিত থাকেন, অবশ্য বিষয়টি আমার কাছে ঝামেলার লাগেনি। পেশা ছাত্র হলে ভেরিফিকেশানের সময় পুলিশকে আবেদনকারীর Student id card দেখাতে হয় , অন্যান্য পেশার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পেশার স্ব্পক্ষ প্রমানের কাগজ দেখাতে হয় । এসব ক্ষেত্রে পুলিশকে অরিজিনাল কপি প্রদর্শন করতে হয় । সাধারন মানুষ যারা পুরনো পাসপোর্ট renew করাবেন শুধুমাত্র তাদের কোন পুলিশ ভেরিফিকেশান হবেনা । এছাড়া অন্য সকল ক্ষেত্রে Ordinary পাসপোর্টের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশান হবে । বিশেষ কারনে পুলিশ ভেরিফিকেশান সম্পর্কে আর বিস্তারিত নাই বললাম ।

***পাসপোর্ট সংগ্রহ:

রিসিটে কর্তৃপক্ষের দেয়া তারিখে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবেনা , বরং মোবাইলে confirmation পাসপোর্ট collection এর তারিখ জানিয়ে মেসেজ এলে তারপর পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে যেতে হবে । পাসপোর্ট অফিসের ২য় তলায় পাসপোর্ট ডেলিভারি দেয়া হয়, এখানে লাইনে দাঁড়িয়ে রিসিট জমা দিতে হবে, সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তা রিসিটের বারকোড কম্পিউটারে স্ক্যান করে দেখবেন পাসপোর্ট
তৈরি হয়েছে কিনা, পাসপোর্ট রেডি থাকলে সেনা কর্মকর্তা রিসিট রেখে দিবেন এবং পাশেই পাসপোর্ট প্রত্যাশী অপেক্ষারত অনেক মানুষের সাথে আপনিও অপেক্ষা করতে থাকবেন ।এই অপেক্ষার সময় সর্বনিম্ন ১ ঘন্টা থেকে সর্বোচ্চ ৪ ঘন্টাও হতে পারে কারন পাসপোর্ট খুজে বের করতে নাকি সময় লাগে । সর্বদা সজাগ থাকুন কারন মাইকে আপনার নাম ঘোষনা হলো কিনা খেয়াল রাখতে হবে আর নাম ঘোষনা হলে আপনাকে কাউন্টারে গিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে ।

আমার অভিজ্ঞতাঃ

গত ৩১ শে মার্চ,২০১৫ সকাল বেলা আমি অনলাইনে আবেদন ফর্মের সাথে জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত ফটোকপির ও SSC certificate এর সত্যায়িত ফটোকপি (পেশা ছাত্র) নিয়ে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে যাই, কিন্তু জন্ম নিবন্ধন সনদ অনলাইনে চেকেবল না থাকার কারনে ওই দিন কাজ অসম্পূর্ন রেখে চলে আসি। পরের দিন ১লা এপ্রিল আমার জন্ম নিবন্ধন সনদ গ্রামের UP অফিস থেকে জাতীয় ডেটাবেজে আপলোড করার পর দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে পাসপোর্ট অফিসে যাই, শেষ সময় বলে কিনা জানিনা কোথাও একদমই সিরিয়াল বা ভীড় ছিলনা । পুরো আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আমার মাত্র ১৫ মিনিট সময় লেগেছিল । রিসিটে পাসপোর্ট সংগ্রহের তারিখ ছিল ১২ই এপ্রিল, কিন্তু আমার মোবাইলে confirmation মেসেজ আসে ১৯শে এপ্রিল সন্ধায় । পরের দিন ২০শে এপ্রিল পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে আমার সময় লেগেছিল ২ঘন্টা ৩০ মিনিট, অনেকে আবার ১ ঘন্টা দাড়িয়ে পাসপোর্ট পেয়েছিল কেউ কেউ আবার ৪ ঘন্টা পরও পাসপোর্ট পায়নি । অনেকের মোবাইলে একটি confirmation মেসেজ আসার পরও পাসপোর্ট তৈরি হয়নি , আবার অনেকে তিন মাস ঘুরেও অজানা কারনে পাসপোর্ট পাচ্ছিল না । তাই সামান্য ভোগান্তি হতে পারে
এমন মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে পাসপোর্ট তৈরি প্রক্রিয়া শুরু করা উত্তম হবে ।

কিছু লক্ষণীয় বিষয়:

*যে কোন সমস্যায় দায়িত্বরত সেনা সদস্যদের সহায়তা নিন।
*যে কোন সময় ব্যবহারের জন্য স্ট্যাপলার, পিন, আঠা, কলম ইত্যাদি সঙ্গে রাখবেন।
*কোন ভুল বা অসম্পুর্ন তথ্য দিলে ভোগান্তি আপনারই হবে
*যদি কোন ঝামেলা অথবা অন্যান্য কারনে একদিনে পুরো কাজ সম্পন্ন না করা যায় তাহলে পরবর্তী দিন আবার প্রথম থেকে প্রসেস শুরু করতে হবে, অর্থাৎ পাসপোর্ট অফিসের নিচের তলা থেকে আবার সিরিয়াল নিয়ে আবার পুর্বের ন্যায় কাজ করতে হবে ।
*এমআরপির আবেদন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাচ্ছে দেশের ১০টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে। প্রতিটি আঞ্চলিক অফিসের অধীনে রয়েছে কয়েকটি জেলা। ব্যাংকের নাম , শাখা, পাসপোর্ট অফিসের ঠিকানা নিম্নের লিঙ্ক গুলো থেকে সংগ্রহ করুন ।
*আবেদন ফরম জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীকে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে। সংগ্রহ করার সময় নিজে না থাকলেও চলবে।
*আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যত না সময় লাগে তার থেকেও বেশি সময় লাগে আর ভোগান্তি হয় তৈরিকৃত পাসপোর্ট ডেলিভারি নিতে ।

(Visited 1 times, 1 visits today)

Comments

comments