বাড়ি ফেরেনি ছেলে, ২২ বছর ধরে ভাত খান না মা। পডুন এই মায়ের করুণ কাহিনী।

‘আয় খোকা ভাত খেয়ে যা। বেড়ে বসে আছি যে। বেলা যে পড়ে এলো।’ মায়ের এই ডাক শুনতে আমরা অভ্যস্ত। আসলে সন্তান খেলে তবেই মায়ের শান্তি। আদরে-ধমকে না খেলে মুখ ভার করে বসে থাকেন মা। নিজেও খান না। এই দৃশ্যও আমরা দেখতে অভ্যস্ত। কিন্তু, কোনো মা যদি সন্তানের পথ চেয়ে বছরের পর বছর বসে থাকেন! পণ করেন যে ছেলে ফিরলে তবেই মুখে ভাত তুলবেন! না গল্প নয়, বাস্তব। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ভাত খাননি ভারতের বালুরঘাট ব্লকের অমৃতখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের মালঞ্চা আশ্রমপাড়ার বাসিন্দা নন্দরানি মহন্ত (৬০)। কারণ, ২২ বছর আগে রাগ করে মামার বাড়ি বাংলাদেশ চলে গিয়েছিল একমাত্র ছেলে। বাড়ি ফিরে আসার অনুরোধ করেছিলেন অনেক। মায়ের কথা রাখেনি সন্তান। সেই শুরু। তারপর আর ভাত মুখে দেননি নন্দরানি মহন্ত। আজও ছেলের পথ চেয়ে বসে আছেন তিনি। তাহলে কী খান পেশায় মুড়ি বিক্রেতা নন্দরানি দেবী? ওই গৃহবধূর দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় রয়েছে ১০ থেকে ১২ কাপ দুধ চা আর প্রায় ৮০টি পান। মুখে তোলেন না অন্য কোনো খাবার। তবে নিজে ভাত-তরকারি মুখে না খেলেও মেয়ে ও স্বামীর জন্য রান্না করেন। ছোটো মেয়ে ছবি মহন্ত বলেন, মাকে আমরা আগে খেতে বলতাম। কোনো দিন শোনেননি। বাবার অসুস্থতার সময় দাদা ২২ বছর আগে বাড়ি ছেড়েছিলেন। তারপর থেকেই পান আর চা খেয়েই থাকে। এক আধটা বেগুন বা পটল ভাজা মুখে তোলে। তাও তো বছরে হয়ত একবার বা দুইবার। তবে বছর দশেক আগে বাড়ি ফিরেছিল সেই ছেলে। মাকে অনেক বুঝিয়ে ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা করেছিল। তবে ছেলে যেহেতু বাড়িতে থাকেনি তাই নিজের প্রতিজ্ঞাও ভাঙেননি নন্দরানি দেবী। আপনি কেন ভাত খাননি? প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে যেন গলা ভিজে এলো তাঁর। বললেন অভিমানের কথা। ”নিজে খেটেখুটে ছেলেকে মানুষ করলাম। ছেলেমেয়ের জন্যই তো সবকিছু। কিন্তু তারা তো বুঝল না আমার মন। তারাই যদি এ রকম করে তাহলে আমি আর খেয়ে কী করব?” কিন্তু, ভারী খাবার না খেয়ে এতদিন বেঁচে আছেন কীভাবে? অবাক হয়েছেন চিকিৎসকরা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুকুমার দের বক্তব্য, ”সাধারণত ভাত বা প্রোটিন জাতীয় কোনো খাবার না খেলে এতদিন বেঁচে থাকা যায় না। আর বেঁচে থাকলেও শরীরে নানা রোগ দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তবে তারপরও যদি কেউ বেঁচে থাকেন তাহলে তা বিস্ময়কর।” যদিও এসবে কান দিতে নারাজ নন্দরানি দেবী। তিনি বলেন, ছেলে যখন বাড়ি থেকে চলে গেল, তখন থেকে আর খেতে ইচ্ছে করেনি। ভাত খাওয়ার ইচ্ছেটাও কোথাও যেন মরে গেছে। ছেলে বাড়ি ফিরে এলে কী তাহলে ফের ভাত মুখে তুলবেন তিনি। তা অবশ্য জানা যায়নি। তবে বাড়ির সদস্যরা জানাচ্ছেন, উঠোনে এখনও মাঝে মাঝে ভাত বেড়ে বসে থাকেন তিনি। তাকিয়ে থাকেন হাট করে থাকা খোলা দরজাটার দিকে। যদি ফিরে আসে সে। যদি ফিরে আসে….

(Visited 1 times, 1 visits today)

Comments

comments