কারাগারে পড়াশোনা করেও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে চান্স!

মানুষের ইচ্ছা শক্তি তার কাছে সবচেয়ে বড় শক্তি। মানুষের অদম্য ইচ্ছার কাছে কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। মানুষ ইচ্ছা করলে সব কিছুই করতে পারে। এ কথার আরেক বার প্রমাণ দিলেন ভারতের এক শিক্ষার্থী। কারাগারে থেকে পড়াশোনা করে পিয়ুষ গোয়াল নামে এক শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ারিং-এ চান্স পেয়েছেন। তার কঠোর সংগ্রামের কাহিনি নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্যান্য ভর্তি পরীক্ষার্থীদের মতো পিয়ুষ গোয়ালও গত দুই বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তবে পার্থক্য হচ্ছে, রাজস্থানের কোটার একটি কারাগারে বসে পড়াশোনা করতে হয়েছে তাকে। এখানে তার বাবা একজন কয়েদি হিসেবে আছেন।

কারাগারের কক্ষটির অবস্থা খুব নাজুক। ৮ ফুট দৈর্ঘ্য, ৮ ফুটের প্রস্থের কক্ষটিতে রাত ১১টার পর বাতি নিভিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। তখন মোমের আলোতে পড়াশোনা করতে হয়েছিল তাকে। বই কেনার জন্য সামর্থ্যও ছিল না তার।
পিয়ুষের বাবা ফুল চাঁদ একজন হত্যা মামলার আসামি। তার বাবার আর্থিক সামর্থ্য ভালো নয়। যার কারণে শহরের কোনো হোস্টেল থেকে পড়াশোনার সামর্থ্য ছিল না পিয়ুষের। সম্প্রতি ১৮ বছরের এই তরুণ ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি পরীক্ষায় ৪৫৩ তম স্থান দখল করেছেন তিনি।

পিয়ুষ তার সফলতার কাহিনি বলতে গিয়ে বলেন, “কারাগার খুব বেশি খারাপ নয়। মানুষ মনে করে, এখানকার পারিপার্শ্বিক অবস্থা খুব খারাপ। আসলে ততটা নয়। আমি আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। আমাকে এখানে রেখে বাবা বেশ সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি আমার পড়াশোনার সব খরচ জুগিয়েছেন।”

পিয়ুষের বাবা ফুল চাঁদ ১৪ বছর কারাভোগের প্রায় শেষ প্রান্তে। তাই তাকে উন্মুক্ত কারাগারে থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছে। সংশোধনমূলক কারাগার এলাকা ছেড়ে তিনি বাইরে কাজ করতে পারেন। তবে সন্ধ্যার মধ্যে আবার এখানে ফিরে আসতে হয়। পিয়ুষ গত দুই বছর ফুল চাঁদের সঙ্গে এখানে আছেন।

গত দুই বছরে ছেলের পড়াশোনা বাবদ ১২ হাজার রুপি খরচ করেছেন ফুল চাঁদ। তিনি শহরের একটি দোকানে কাজ করেন। তাই ছেলের জন্য তিনি হোস্টেলের ব্যবস্থা করতে পারেননি। তবে ফুল চাঁদ তার ছেলেকে স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তির ব্যবস্থা করেছিলেন।

এই প্রসঙ্গে ফুল চাঁদ বলেন, ‘এখানে পড়াশোনা করা খুব কঠিন কাজ। তবে কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। বিশেষ করে এখানকার তরুণ এক নিরাপত্তা কর্মী আমার ছেলেকে পড়াশোনার ব্যাপারে বেশ উৎসাহ

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

(Visited 1 times, 1 visits today)

Comments

comments