ছেলেকে ডক্টরেট পাস করাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় মা।

মায়ের ইচ্ছে ছেলেকে ডক্টরেট পাস করা। কিন্তু মায়ের এই ইচ্ছায় পথের কাটা আর্থিক অসচ্ছলতা। তবে ছেলেকে ডক্টরেট পাস করাবেনই মা। এই তার পণ। তাই পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা দূর করতে মা নিজেই অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়লেন।

গত মাস দু’য়েক হল অটো চালাচ্ছেন ভারতের বাঁকুড়া শহরের সানবাঁধার বছর পঁয়তাল্লিশের গৃহবধূ সুচিত্রা মুখোপাধ্যায়। শহর তাঁকে চেনে ‘পুতুনদি’ বলে। ছেলে অভিষেক সদ্য কলেজে ঢুকেছেন পাঁচমুড়া কলেজে অঙ্কে অনার্স নিয়ে। ইচ্ছে, ডক্টরেট করার। ছেলেকে লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে অটোরিকশা নিয়ে টো-টো করছেন মা।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘরে অভাব বলে তাঁর পড়াশোনা মাধ্যমিক পর্যন্ত। নিজের পছন্দে বিয়ে বাঁকুড়া শহরের এক ওষুধের দোকানের কর্মী শান্তি মুখোপাধ্যায়কে। নেমেছিলেন সক্রিয় রাজনীতিতে। ২০০৪ সালে বাঁকুড়া ২ পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন ফরওয়ার্ড ব্লকের হয়ে। কিন্তু সে দলের মতাদর্শ নিয়ে চলতে অসুবিধা হওয়ায় কয়েক মাসের মধ্যেই পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে বসেন। তা অবশ্য গৃহীত হয়নি।

অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নামাটাও বিনা ঝামেলায় হয়নি। ছেলে যখন কলেজের দোরগোড়ায়,

তখন পারিবারিক আয় হাজার তিনেক টাকা। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে একটি অটোরিকশা কিনেছিলেন শান্তিবাবু। কিন্তু লোক রেখে তা চালাতে গিয়ে ঢাকের দায়ে শীতলা বিক্রির জোগাড়। সুচিত্রা সিদ্ধান্ত নেন নিজেই অটোরিকশা চালাবেন। কারণ, অটোরিকশা চালাতে গেলে শান্তিবাবুকে চাকরি ছাড়তে হতো। ডকে উঠতো ছেলের পড়াশোনা।

সুচিত্রা বলে চলেন, ‘‘স্বামী-ছেলের মত ছিল না। কিন্তু মেয়ে হয়ে জন্মেছি বলে শুধু রান্নাঘর সামলানোই আমার কাজ নয়। প্রয়োজনে দায়িত্বও নিতে পারি।” রোজ সকাল ৭টা নাগাদ টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। ফিরতে দুপুর। রান্না করে, খেয়ে-খাইয়ে ফের বিকেলে বেরোনো। ফিরতে রাত। তবে এই খাটনির দৌলতে মাস গেলে আরও হাজার তিনেক টাকা হাতে আসছে তাঁর।

এ প্রসঙ্গে তার স্বামী শান্তিবাবু বলেন, “ও অসুবিধায় পড়বে ভেবে বাধা দিয়েছিলাম। এখন মুখে কুলুপ আমার।’’ ছেলে অভিষেকের উপলব্ধি, ‘‘পড়া শেষ করেই মায়ের পাশে দাঁড়াব।’’

রিকশা বা অন্য টোটো চালকদের সঙ্গে যাত্রী নিয়ে ঝামেলা, মহিলা বলে উড়ে আসা কটূক্তিতে অস্বস্তি হয় না? সুচিত্রার স্বীকারোক্তি, ‘‘হয়।’’ তবে জুড়ে দিচ্ছেন, ‘‘গায়ে মাখি না।’’

(Visited 1 times, 1 visits today)

Comments

comments