নারীরা কী পুরুষের মতো মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামাজ আদায় করতে পারবে?

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, নারীর জন্য নির্ধারিত হুজরার নামাজ অপেক্ষা তার ঘরে নামাজ পড়া উত্তম, আর ঘরে নামাজ অপেক্ষা নিভৃত ও একান্ত কোঠায় নামাজ পড়া উত্তম। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৫৭০]

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বর্ণনায় নারীদের নামাজের উত্তম স্থান
ক. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, নারীর জন্য নির্ধারিত হুজরার নামাজ অপেক্ষা তার ঘরে নামাজ পড়া উত্তম, আর ঘরে নামাজ অপেক্ষা নিভৃত ও একান্ত কোঠায় নামাজ পড়া উত্তম। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৫৭০]
খ. একদা হজরত উম্মে হুমাইদ (রা.) রাসুল (রা.)-এর দরবারে এসে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি আপনার সঙ্গে নামাজ পড়তে ভালোবাসি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি জানি তুমি আমার সঙ্গে নামাজ পড়তে ভালোবাসো, কিন্তু তোমার ঘরে নামাজ তোমার বাইরের হুজরায় নামাজ অপেক্ষা উত্তম। আর তোমার হুজরায় নামাজ তোমার বাড়িতে নামাজ অপেক্ষা উত্তম। আর তোমার বাড়িতে নামাজ তোমার মহল্লার মসজিদে নামাজ অপেক্ষা উত্তম। আর তোমার মহল্লার মসজিদে নামাজ আমার মসজিদে নামাজ অপেক্ষা উত্তম। অতঃপর উক্ত নারী নিজ ঘরের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নামাজের স্থান নির্ধারণ করিয়ে নিল এবং আমরণ তাতেই নামাজ আদায় করল। [মুসনাদে আহমাদ, সহিহ ইবনে খুযাইমা ও সহীহ ইবনে হিব্বান, সূত্র ‘তারগীব-তারহীব’, হাদিস নং-৫১৩]
গ. হজরত উম্মে সালমা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, গৃহাভ্যন্তরই হলো নারীদের জন্য উত্তম মসজিদ। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-২৬৫৯৮) উপর্যুক্ত সহিহ হাদিসসমূহ দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত হয় :
ক. নারীদের নামাজের জন্য তাদের নিজ গৃহকোণ মসজিদ অপেক্ষা উত্তম।
খ. রাসুল (সা.) নিজেই নারীদেরকে মসজিদে গমন থেকে নিরুৎসাহিত করেছেন।
গ. রাসুল (সা.) যে পন্থাকে উত্তম বলেছেন তার বিপরীতটা উত্তম ও সওয়াবের কাজ হতেই পারে না। কেউ এ ধরনের মনোভাব পোষণ করলে তা হবে চরম বেয়াদবি।
বি.দ্র. হাদিসের কয়েকটি বর্ণনা, যা নারীদের মসজিদে আসা প্রসঙ্গে পাওয়া যায়, তা প্রাথমিক যুগের কথা, তখন পুরুষরাও সব মাসআলা জানত না, তখন কয়েকটি কঠিন শর্তসহকারে রাতের আঁধারে নির্দিষ্ট দরজা দিয়ে একদম পেছনের কাতারে দাঁড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নবী (সা.) উক্ত অনুমতি প্রত্যাহার করে তাদেরকে ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেমনটি ওপরে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং ওইসব হাদিস দ্বারা বর্তমানে নারীদের মসজিদে গমন জায়েজ বলা যাবে না।
নারীদের মসজিদে গমন প্রসঙ্গে বিশিষ্ট সাহাবীদের উক্তি :
ক. সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারিণী ও উম্মতের শ্রেষ্ঠ নারী আলেম আম্মাজান হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, যদি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেখতেন যে নারীরা সাজসজ্জা গ্রহণে, সুগন্ধি ব্যবহারে ও সুন্দর পোশাক পরিধানে (মুসলিম শরীফের টীকা দ্রষ্টব্য) কী পন্থা উদ্ভাবন করেছে তাহলে অবশ্যই তাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করে দিতেন, যেমন নিষেধ করা হয়েছিল বনি ইসরাঈলের নারীদেরকে। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং-৮৬৯, সহিহ মুসলিম শরিফ, হাদিস নং-৪৪৫)
খ. হজরত আমর শাইবানী (রহ.) বলেন, আমি (এ উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ফিকাহবিদ) সাহাবী হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-কে দেখেছি যে তিনি জুমু’আর দিনে নারীদেরকে মসজিদ হতে বের করে দিতেন এবং বলতেন, তোমরা নিজ ঘরে চলে যাও, তোমাদের জন্য ইহাই উত্তম। (হাদিসটি ইমাম তাবারানী নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ‘তারগীব-তারহীব’, হাদিস নং-৫২৩)
উল্লেখ্য, এ হলো নবীযুগের পরপরই মসজিদে গমনকারিণী নারীদের অবস্থার পরিবর্তনে হজরত আয়েশা (রা.)-এর উক্তি ও হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর আমল। অথচ তখনকার নারীরা ছিলেন সাহাবী অথবা তাবেঈ, অন্য কেউ নন। পক্ষান্তরে আজ চৌদ্দ শতাব্দী পরে যখন নারীদের তেল, সাবান, শ্যাম্পুসহ সকল প্রকার প্রসাধনীই সুগন্ধিযুক্ত। অধিকাংশ পর্দা করে না। যারা বোরকা পরে তাদের অধিকাংশই সৌন্দর্যের কেন্দ্রস্থল চেহারাকে উন্মুক্ত রাখে এবং তাদের বোরকা ও পোশাক হয় নজরকাড়া ফ্যাশনের। এ অবস্থা রাসুল (সা.) দেখলে নারীদেরকে মসজিদে গমনের অনুমতি দিতেন, এটা বিবেকবান কেউ কি কল্পনা করতে পারে?
নারীদের মসজিদে গমনের ব্যাপারে হানাফী, মালেকী ও শাফেয়ী মাজহাবের সিদ্ধান্ত :
ক. হানাফী মাযহাব : সকল নারীর জন্য জামা’আত, জুমু’আ, ঈদ ও পুরুষদের মাহফিলে অংশগ্রহণ সর্বাবস্থায় মাকরুহে তাহরীমী। আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু : ১/১১৭২।
খ. মালেকী মাজহাব : অতি বৃদ্ধা নারী ছাড়া সকল নারীর জন্য জুমু’আয় অংশগ্রহণ হারাম।
গ. শাফেঈ মাযহাব : অতি বৃদ্ধা নারী ছাড়া সকল নারীর জন্য জুমু’আসহ যেকোনো জামা’আতে অংশগ্রহণ সর্বাবস্থায় মাকরুহে তাহরীমী। ‘আল ফিকহু আলাল মাযাহিবিল আরবা’আ’, ১/৩১১, ৩১২।
প্রিয় পাঠক! উপর্যুক্ত আলোচনায় আমরা যা পেলাম এর বিপরীতে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য হাদিস ও ফিকহী বর্ণনা নেই, যার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কোনো যুগে নারীদের মসজিদে গমন ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত, মুস্তাহাব কিংবা অধিক সওয়াবের কাজ ছিল এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), সাহাবীগণ ও পরবর্তী ফিকাহবিদ ইমামগণ নারীদেরকে মসজিদে গমনে উৎসাহিত করেছেন। তাহলে বর্তমানে নৈতিক অবক্ষয়ের চরম মুহূর্তে কী করে তা সাওয়াব ও আগ্রহের কাজ হতে পারে? যে সকল আলেম বা স্কলার বর্তমানে নারীদেরকে মসজিদে গমনে উৎসাহিত করেন, তাঁরা কি রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), হজরত আয়েশা (রা.) ও ইবনে মাসউদ (রা.) এবং মুজতাহিদ ইমামগণের চেয়েও বেশি যোগ্য ও অনুসরণীয় হয়ে গেলন? যে সকল স্কলার অসংখ্য বেগানা নারীদের চেহারার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে ইসলামী লেকচার প্রদান করেন। কিংবা লক্ষ লক্ষ বেগানা নারীকে দেখার জন্য বিনা প্রয়োজনে নিজেকে উপস্থাপন করেন। অথচ সহিহ হাদিসের আলোকে এ সবই নিষিদ্ধ। (দেখুন : সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং-২৭৮২, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৪১১২)। বাস্তব দ্বীন ও ইসলামের ক্ষেত্রে এরাও কি গ্রহণযোগ্য হয়ে গেলেন?
মাসআলা ক. একই নামাজে জামা’আতে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে যে সকল পুরুষের সম্মুখে কিংবা পাশে কোনো নারী থাকবে সে সকল পুরুষের নামাজ ফাসিদ হয়ে যাবে। [ফাতাওয়ায়ে শামী : ১/৫৭৩, আলমগীরী : ১/৯৭] এ কারণেই হারাম শরিফে পুরুষদের সম্মুখে ও পাশে দাঁড়ানো থেকে নারীদেরকে নিবৃত্ত করতে কর্তৃপক্ষ সর্বশক্তি নিয়োগ করে থাকে।
মাসআলা খ. মসজিদের যে তলায় নারীরা জামা’আতে অংশগ্রহণ করে তার উপরতলায় বরাবর স্থানের পেছনে যে সকল পুরুষ দাঁড়াবে তাদের সকলের নামাজ ফাসিদ হয়ে যাবে। [ফাতাওয়ায়ে শামীসহ দুররে মুখতার : ১/৫৮৪, ফাতাওযায়ে আলমগীরী : ১/৯৭]

(Visited 1 times, 1 visits today)

Comments

comments