খাদিজাকে কোপানোর আসল রহস্য ফাঁস

ঘটনার দিন সকাল থেকেই খাদিজার ওপর নজর রাখছিলেন বদরুল। এরপর পরীক্ষার হলে খাদিজার জন্য কোমল পানীয় পাঠান। কিন্তু খাদিজা তা ফেরত পাঠান। এরপর পরীক্ষা শেষে ফেরার পথে খাদিজাকে চাপাতি দিয়ে কোপান বদরুল।
সিলেটে কলেজছাত্রী খাদিজা বেগমকে কোপানোর ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বদরুল আলম এসব তথ্য দিয়েছেন বলে আদালত সূত্র জানায়।
8e6e256d1a74baeab96a4b65325f5b33-57f34aee8af01
আজ বুধবার সিলেটের মহানগরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম উম্মে সরাবন তহুরা ১৬৪ ধারায় বদরুলের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। বেলা ২টা ৪০ মিনিট থেকে চারটা পর্যন্ত তাঁর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়। বদরুলের দাবি, খাদিজার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
বদরুল জবানবন্দিতে বলেন, প্রেমের সম্পর্কের কারণে খাদিজা প্রতিজ্ঞা করেছিল—অন্য কারও সঙ্গে সে প্রেমের সম্পর্ক রাখবে না এবং কোনো ছেলের সঙ্গে কথা বলবে না। খাদিজার সঙ্গে তাঁর নিয়মিত কথাবার্তা হতো। কিন্তু ৮ থেকে ১০ মাস আগে খাদিজার পরিবারের সদস্যরা তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর থেকেই খাদিজা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
বদরুল জবানবন্দিতে আরও জানান, গত সোমবার পরীক্ষা শুরু হওয়ার অনেক আগে সকাল ১০টার দিকে তিনি এমসি কলেজে অবস্থান নেন এবং খাদিজা কলেজের কোন ফটক দিয়ে প্রবেশ করেন তা নজর রাখা শুরু করেন। দুপুর ১২টার দিকে খাদিজা কলেজে প্রবেশ করেন। এরপর খাদিজার সঙ্গে তাঁর কুশলবিনিময় হয় এবং প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাঁদের দুজনের প্রেম যেন না ভেঙে যায়, তা নিয়ে অনুনয়-বিনয় করেন। কিন্তু খাদিজা সেটি মেনে নেননি। তাঁকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। প্রেম ভেঙে গেলে বদরুলের মৃত মুখ দেখতে হবে বলেও খাদিজাকে জানায়। এরপর খাদিজা পরীক্ষার হলে চলে যান। খাদিজা পরীক্ষার হলে গেলে বদরুল একটি কোমল পানীয় ও পানির বোতল কিনে অফিস পিয়নের মাধ্যমে খাদিজার কাছে পাঠান। কিন্তু খাদিজা সেসব নিতে অস্বীকৃতি জানান।
বদরুল জানান, খাদিজা পানীয় নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তিনি নগরের আম্বরখানা এলাকায় গিয়ে একটি মাংস কাটার চাপাতি কেনেন। এরপর পুনরায় এমসি কলেজে ফিরে আসেন। পরীক্ষা শেষে যখন খাদিজা হল থেকে বেরিয়ে আসেন, তখন পুনরায় প্রেমের সম্পর্ক না ভাঙার অনুরোধ জানালে খাদিজার নেতিবাচক উত্তর আসে। এরপর তিনি উত্তেজিত হয়ে রাগের মাথায় সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছা ও বুদ্ধিতে চাপাতি দিয়ে খাদিজাকে এলোপাতাড়ি মাথা, হাত ও শরীরের নানা জায়গায় কোপাতে থাকেন। এরপর দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ এসে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

Comments

comments